Freedom Fighter

আমাদের জানা মতে, কেডি স্কুলের যে সকল ছাত্র দেশ মাতৃকার মুক্তির লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন তাঁদের তালিকাঃ

১। নজমুল হক (উপ পরিচালক, দূর্নীতি দমন)

২। কুদরত-ই-এলাহী (এ ডি সি)

৩। কাজী নুরুন নবী (এমবিবিএস শেষ বর্ষের ছাত্র)

৪। আব্দুল্লাহ আল মামুন

৫। ইদ্রীস আলী (এসএসসি পরীক্ষার্থী)

৬। ইব্রাহিম আলী খোন্দকার (এসএসসি পরীক্ষার্থী)

৭। এস এম মতিউল ইসলাম

৮। জয়নাল আবেদীন

৯। সানা উল্লাহ

১০। হিম্মত আলী

১১। আব্দুর রাজ্জাক

যে সকল কেডিয়ান সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তাঁদের পরিচিতি ও ভূমিকা তুলে ধরা হলোঃ

মোঃ আব্দুল জলিল

নওগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান, প্রাক্তন সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে সমগ্র বাংলাদেশে বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনের অতি পরিচিত একটি মুখ জনাব মোঃ আব্দুল জলিল। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি সারা উত্তরবঙ্গে সুপরিচিত হয়েছেন।

১৯৭১ এর মার্চ মাসে নওগাঁ বার লাইব্রেরীতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের জন্য যে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়, জনাব জলিল তার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। আর এই থেকে শুরু হলো তাঁর নয় মাস ব্যাপী নিদ্রাহীন দূরন্ত সংগ্রামী জীবন। সান্তাহারে বাঙালি বিহারী দাঙ্গার মোকাবিলায় তিনি এগিয়ে যান। নওগাঁ ইপিআর এর অবাঙালি জোয়ানদের নিরস্ত্রীকরণ ও গ্রেফতারের ব্যবস্থা করলেন তিনি। ঐ বাহিনীর অবাঙালি অফিসারদের তাস খেলার ছলে তিনি নিজে হাতে গ্রেফতার করেন। ঢাকার নেতৃবর্গের সঙ্গে তিনি ফোন ও ওয়ারলেসের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। নওগাঁ থেকে স্থানীয় প্রশিক্ষণের পর বগুড়া এবং রাজশাহী দখলের জন্য মুক্তিবাহিনী পাঠানো হয়েছিল এপ্রিল মাসে। এই অভিযানে আফজাল, ফারুকসহ আরো অনেকে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এপ্রিল মাসে গঠিত তথাকথিত শান্তি কমিটির তৎপরতাকে জনাব জলিল প্রাথমিকভাবে রুখে দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে তিনি ভারতের বালুরঘাটে পৌঁছে লক্ষ্য করেন, সেখানে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে তরুণদের অর্থাভাব, খাদ্যাভাব এবং অসহায়ত্ব। আবার ২০ এপ্রিল তিনি ফিরে এলেন নওগাঁতে। এসে তিনি জনাব মোজাহারুল হক (পোনা মিয়া) এর সাথে আলাপ করলেন। ঝুঁকি নিয়ে অতি কৌশলে তখনকার নাশন্যাল ব্যাংক অব পাকিস্তান (বর্তমানে সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখা) থেকে তিনি ও পোনা ভাই একাত্তর লক্ষ আশি হাজার টাকা সংগ্রহ করেন। এই টাকার সাহায্যে তিনি ভারতের বালুরঘাটে ২৪ এপ্রিল ’বাংগারীপুর ক্যাম্প’খুলে মুক্তিযুদ্ধের সার্বিক তৎপরতা চালিয়ে যান।